বিদায় বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী – সাদিয়া রশ্নি সূচনা

Share

বাংলাদেশের সার্বিক চিত্র নারীর জন্য ঠিক কতখানি কঠিন তা তো কারো অজানা নয়। এমন একটা দেশে গৃহবধূ থেকে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠা বেগম খালেদা জিয়া, এদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবেন। রাজনৈতিক মতাদর্শের মিল-অমিলকে ছাপিয়ে অগণিত মানুষের মনে তিনি জায়গা করেছেন তাঁর নিজস্বতায়, তাঁর সংগ্রামের জীবনের গল্পে।

উনার কিছু ভিডিও ক্লিপস আসে হোমপেজে, উনি কাঁদছেন, দুঃখের কথা বলছেন, কখনো স্থির হয়ে ভাষণ দিচ্ছেন, দেশ-দশের কথা বলছেন….। সাধারণ মানুষের মতোই আবেগ দিয়ে কথা বলা মানুষের মাঝে অসাধারণ অনেক কিছু ছিল বলেই তিনি গণমানুষের কাছে আপোষহীন নেত্রী হতে পেরেছিলেন। রাজনীতি মানে যে রাজ-নীতিই এটাও তাঁর বক্তব্যে দৃশ্যমান হতো। কথায় গালি নেই, হঠাৎ মেজাজ হারিয়ে আজেবাজে শব্দের আধিক্য নেই, আছে আস্তে আস্তে কথা বলা মার্জিত এবং রুচিশীল একজন রাজনীতিবিদের আচরণ। তাঁর পরিশীলিত কথার কারণে ভিন্ন দলের মানুষও তাকে শ্রদ্ধা করেছেন, ভালোবেসেছেন।

বেগম জিয়াকে নিয়ে সবচেয়ে কুৎসিত কথাগুলো হলো, মহিলা সুন্দর জন্য ভোট পায়, মহিলার মেকাপে এতো এতো টাকা ঢালেন, উনি এইট পাশ, উনি এইখানে এই করছেন, ওইখানে ওই করছেন বলে চরিত্রহনন…… ভাবতে পারেন দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী তিনিও এসব শোনেন!!! এসব শুনতে শুনতেই উনি নেতা হলেন! দেশ প্রধান হলেন! এমন বৈষম্যের দেশে রুচিশীল এবং একাগ্র একজন আপোষহীন নেত্রী বাংলাদেশ পেয়েছিল এটি বাংলাদেশের সৌভাগ্য। খুঁজে দেখুন গত কয়েক যুগে এভাবে আর কারো উত্থান হয়েছে কী না? কিংবা হবে কী না? কোনো সম্ভাবনা দেখেন কী না?

নীতিহীন রাজনীতিবিদদের মাঝে আজকাল গালাগালি আর চুরি-চামারি ছাড়া আর কিছুরই নাম নিশানা পাওয়া যায় না। অথচ রাজনীতি হবার কথা ছিল সভ্য, সুন্দর। রাজনীতি মানেই নির্বাসন না, রাজনীতি মানেই বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে দেশকে একলা দখল করা না, রাজনীতি মানেই আগ্রাসন না। রাজনীতি হলো দেশকে ভালোবেসে, দেশের মাটিকে আঁকড়ে বারবার জনমানুষের কাছে ফিরে আসা, জনমানুষের জন্য দেশকে গড়া। এই ফিরে আসাটা এবার আর হচ্ছে না। আপনার রুচিশীল সাজে থাকা শুভ্রতা, দৃপ্ত পদচারণা, স্থিরতা, দেশে থাকতে চাইবার আকুলতা, সবশেষে এই দেশেই শেষ নিঃশ্বাসটুকুর সবকিছুই মনে রাখবে বাংলাদেশ। বিদায় বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

ইন্না-লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

৩০ডিসেম্বর,২০২৫
ঢাকা