২০১২ সাল।
এইচএসসি শেষ করে আমি ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হলাম। ঠিক সেই সময়েই ও জার্মান ভাষা শেখা শুরু করল। বাংলাদেশের কোনো ইউনিভার্সিটিতেই ও নিজের মনের মতো কোনো সাবজেক্টে সুযোগ পায়নি। সেই হতাশা থেকেই ধীরে ধীরে ওর বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছেটা তৈরি হয়।
আমার তখন এসব নিয়ে বিশেষ কোনো আগ্রহ ছিল না। মনে হতো—এগুলো হবে না। ভবিষ্যৎটা যেন অন্য কোথাও লেখা আছে।
সময়ের সাথে সাথে আমাদের দেখা কমে গেল।
ও নিজের পড়াশোনা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। আগে আমার প্রতি যে পাগলামি, যত্ন আর আবেগ ছিল, সেটা তখন আর আগের মতো রইল না।
তবুও ও আমাকে বলত,
“আমি তোমার জন্যই দেশের বাইরে যেতে চাই। আমরা তো একই বয়সের। দেশে থাকলে আমাদের বিয়ে হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।”
এইভাবেই কেটে গেল প্রায় দেড় বছর।
এরপর একদিন ও জার্মানির ভিসা পেয়ে গেল।
সেদিন আমি ভেতরে ভেতরে ভয় পেয়ে গেলাম।
ভাবলাম—এত অল্প বয়সে বিদেশে গেলে মানুষ কি আর কাউকে আগের মতো মনে রাখে? ও কি আমাকে ভুলে যাবে?
সবশেষে সবকিছু আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিলাম।
আমি ছোটবেলা থেকেই নানু-নানার কাছে বড় হয়েছি। মামারাই ছিলেন আমার গার্ডিয়ান, আর তারা ছিলেন খুবই কড়া। সেই কারণে এসব বিষয় নিয়ে আমি খুব বেশি কিছু ভাবিনি, বা ভাবার সুযোগই পাইনি।
এরপর একদিন সত্যিই ও জার্মানি চলে গেল।
সেদিনটা সারাদিন আমার মাথার ভেতর শুধু একটাই চিন্তা—
“ও যাওয়ার পর কি আমাকে ব্লক করে দেবে?”