প্রাণের টানের প্রিয় স্কুল প্রাঙ্গণে – মোঃ মজনু সরকার

Share

গতকাল ছিল আমাদের ভিত (base) তৈরির কারখানা হরিনা বাগবাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৬০ বছর পূর্তি। যে কারখানার ইটপাথর, দোচালা টিনের ঘর, স্কুলে সামনের বড়ো মাঠ, ক্লাসে থাকা কিছু কাঠের তৈরি বেঞ্চ-চেয়ার, চাঁদ, তারা, পরি আর সূর্য ভাইদের বেলবাড়ির শব্দ, আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাওয়া শ্রদ্ধেয় শামছুল বারী স্যার, রমজান স্যার, শহিদুল বিএসসি স্যার, আলী হোসেন স্যারের মতো স‍্যারদের কাঁচা কঞ্চির মাইর আজ থেকে ২৮ বছর আগে আমাদের ভিত তৈরি করেছিল, যে ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে আজ কর্মক্ষেত্রে সফলতার সাথে বিচরণ করছি। সেই ভিত/শিকড়ের সন্ধানে গতকাল, এত বছর পর বন্ধুরা, সিনিয়র, জুনিয়র এবং এই স্কুল থেকে পাশ করা সকল ছাত্র-ছাত্রীরা একত্রিত হয়েছিলাম। এই একত্রিত হওয়ার সময়কাল ছিল বড্ড স্বল্প, মাত্র ১০ ঘণ্টার মতো। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে বুকের গহিনে জমে থাকা কত স্মৃতিচারণ, কত গল্প, কত আড্ডা, কত খুনসুটি এবং কিছু সময়ের জন্য বন্ধুদের হাত ধরে সেই স্কুল জীবনে ফিরে যাওয়া।

রাত ঘনিয়ে আসে। চারদিকে কুয়াশায় ঢেকে যায়। এরপর সময়ের বেড়াজালে ব্যস্ত জীবনের ছোটাছুটিতে যে যার গন্তব্যের দিকে বেরিয়ে পড়ি। অনুষ্ঠান থেকে শরীরটা নিয়ে বেরিয়ে পড়েছি ঠিকই কিন্তু মনটা এখনো পড়ে আছে বন্ধুদের আড্ডার টেবিলে। আড্ডায় আসা বন্ধুদের দেখে মনে হয়েছে সব কিছু আগের মতোই ঠিক রয়েছে কিন্তু ঠিক নেই শুধু সখের শরীরটা। কারো চুল পেকেছে, কারো চুল পড়েছে, কারো চেহারা ঝুলে গেছে, কারো শরীরটা ভেঙে পড়েছে, কিন্তু মন, দুষ্টামি এবং বন্ধুদের প্রতি ভালোলাগা আর ভালোবাসা ঠিক রয়ে গেছে সেই স্কুল জীবনের মতোই।

আহারে শরীর! তুই যদি মনের মতো তরুণ থাকতি, আর সেই তরুণ মনটা নিয়ে যদি আবার বন্ধুদের সাথে স্কুল জীবনে ফিরে যেতে পারতাম, তবে কতই না মজা হতো! বেঁচে থাকা আমার প্রিয় বন্ধুরা, সুস্থ থাক আমার প্রিয় শিক্ষকেরা এবং ভালো থাক আমার প্রিয় স্কুল। অপেক্ষায় থাকলাম সালাম স্যারের মতো কোনো এক উদ্যমী স্যার বা অন্য কোনো মানুষের হাত ধরে আবার আমরা একত্রিত হবো প্রাণের টানে কোনো এক শুভক্ষণে, আমাদের প্রিয়
স্কুল প্রাঙ্গণে, সে পর্যন্ত ভালো থাক সবকিছু।

২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
সিরাজগঞ্জ।