পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমির আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। এবার অভিনয় নয়, বরং পোশাকের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি। লাহোরের ডলমেন মলে বিশ্বখ্যাত বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘ইভস সেন্ট লরেন্ট’-এর নতুন আউটলেট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নিজের সাহসী ওয়েস্টার্ন লুকের জন্য প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনারও মুখে পড়েছেন এই অভিনেত্রী।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় আলোচনা। কালো রঙের ‘ইভস সেন্ট লরেন্ট’ পোশাকে হাজির হন হানিয়া। তার পরনে ছিল একটি সিল্কের রাফলড ম্যাক্সি স্কার্ট, কালো স্টকিংস এবং একই রঙের স্টাইলিশ পোশাক। এর সঙ্গে নুড মেকআপ ও ‘ওয়েট-হেয়ার’ স্টাইল তার লুককে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। অনুষ্ঠানে ভক্তদের সঙ্গে ছবি তোলা, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং অতিথিদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায় তাকে।
তবে এই ফ্যাশন স্টেটমেন্ট প্রকাশ্যে আসতেই নেটদুনিয়া দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একদল ভক্ত হানিয়ার স্টাইল ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেন। তাদের মতে, একজন শিল্পী কী পোশাক পরবেন, সেটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। সমালোচনার জবাবে একজন ভক্ত লেখেন, “এটা তার নিজের পছন্দ। মানুষকে শুধু পোশাক বা চেহারা দিয়ে বিচার করা উচিত নয়।”
অন্যদিকে, সমালোচকদের দাবি, হানিয়ার এই পোশাক পাকিস্তানের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কেউ কেউ তার ফ্যাশন স্টাইলের সঙ্গে ভারতীয় ইন্টারনেট ব্যক্তিত্ব উরফি জাভেদ ও রাখি সাওয়ান্তের তুলনা করেন। এমনকি সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গ করে একজন লেখেন, “দারাজ থেকে উরফি জাভেদ অর্ডার করলে এমনই আসে!” আবার অনেকে মন্তব্য করেন, এ ধরনের পোশাক তরুণীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে না।
এ ছাড়া কয়েকজন নেটিজেন অভিনেত্রী আলিজাহ শাহর প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন, একই ধরনের পোশাক তিনি পরলে আরও বেশি সমালোচনার মুখে পড়তে হতো। তবে পোশাক নিয়ে চলমান বিতর্ক, সমালোচনা কিংবা তুলনা—কোনো বিষয়েই এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি হানিয়া আমির। বরাবরের মতো এবারও তিনি নীরব থাকাকেই বেছে নিয়েছেন।