দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে পুরো ভারতজুড়ে। এই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার কলকাতায় আয়োজিত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন ওপার বাংলার পরিচিত অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। আন্দোলনে সংহতি জানানোর পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে অবিরত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
তবে এসব হুমকিতে তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত নন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। ব্যঙ্গাত্মক সুর মিলিয়ে অভিনেত্রীর মন্তব্য, “ভয় পেলে কি আর জবলেস হতাম রে!”
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় শ্রীলেখা অভিযোগ করেন, মিছিলে অংশ নেওয়ার পর থেকেই বিজেপি সমর্থকরা তাঁর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাচ্ছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, তিনি নাকি পাকিস্তান কিংবা চীন থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে এসব প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
হাস্যরসের ভঙ্গিতে শ্রীলেখা বলেন, “আমি সাধারণত কমেন্ট সেকশন দেখি না। তবে একজন আমাকে একটি স্ক্রিনশট পাঠায়। সেখানে অনেকেই লিখেছেন—আমার হাতে কাজ নেই, তাই বিদেশী ফান্ডিং নিয়ে এসব প্রটেস্টে যোগ দিচ্ছি।”
কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “এতদিন বলা হতো পুরো সিজেপি আন্দোলনই চীন বা পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হচ্ছে। এখন আবার বলা হচ্ছে, আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বিদেশ থেকে টাকা দেওয়া হচ্ছে। অন্ধভক্তরা সিজেপির পোস্টার ও স্লোগানের চেয়েও বেশি সৃজনশীল গল্প বানাতে পারে! এমনকি ঈশ্বর এসে যদি তাদের বলেন যে তোমরা ভুল করছ, তাহলেও তারা বলবে—আপনি নিশ্চয়ই মুসলিম বা পাকিস্তান থেকে টাকা পেয়েছেন।”
ভিডিওর ক্যাপশনে তথ্যভিত্তিক আলোচনার আহ্বান জানিয়ে শ্রীলেখা লেখেন, “প্রোপাগান্ডা নয়, তথ্য নিয়ে কথা বলুন। এখন নতুন গল্প ফেঁদে বলা হচ্ছে শ্রীলেখা মিত্রকে পাকিস্তান বা চীন টাকা দিচ্ছে। ভক্তরা, একটু বুদ্ধি বাড়াও।”
অন্য একটি পৃথক স্ট্যাটাসে ইনস্টাগ্রামে পাওয়া মৃত্যু হুমকির বিষয়ে অভিনেত্রী উল্লেখ করেন, “ইনস্টাগ্রামে এইমাত্র ডেথ থ্রেট (মৃত্যু হুমকি) এলো। ব্লক করতেই সেটা ডিলিট হয়ে গেল। যাহ! আরে ভয় পেলে কি আর কাজ ছাড়া বসে থাকতাম!”
রাজনৈতিক ও সামাজিক যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে বরাবরই সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন শ্রীলেখা মিত্র। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিতর্কিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক নারী নির্যাতন ও প্রশাসনিক অনিয়মের ঘটনাগুলোতেও তিনি সবসময় রাজপথে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন।