অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ তার নতুন স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘পেইন্ট অন ড্রাই লিফ’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জীবন, মৃত্যু, ভালোবাসা ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক নিয়ে গভীর উপলব্ধি তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমাটির কাজ শুরু হয়েছিল করোনা মহামারির সময় থেকে এবং দীর্ঘ প্রস্তুতি ও যত্নের মধ্য দিয়ে এটি নির্মিত হয়েছে।
সিনেমাটির মূল ভাবনা মানুষের মরণশীলতা ও প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ববোধকে ঘিরে। নওশাবার মতে, মানুষ মনে করে সে অনেক দিন বাঁচবে। এই ভুল ধারণা থেকেই আমরা প্রকৃতিকে ধ্বংস করি, কাছের মানুষদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করি এবং ভালোবাসার বিষয়গুলোও অনেক সময় পরে করার জন্য রেখে দিই। অথচ আগামীকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা কারও নেই।
মৃত্যু প্রসঙ্গে নওশাবা বলেন, জন্মের পর মৃত্যু অবধারিত হলেও মানুষ সেটি সহজে মেনে নিতে পারে না। কারণ আমরা নিজেদের দীর্ঘ জীবন কল্পনা করি। তার কাছে অমরত্ব মানে শারীরিকভাবে চিরকাল বেঁচে থাকা নয়; বরং ভালোবাসা, অনুভূতি ও প্রকৃতিকে রক্ষা করার মাধ্যমে মানুষের স্মৃতিতে বেঁচে থাকা।
‘পেইন্ট অন ড্রাই লিফ’কে নওশাবা এমন একটি কাজ হিসেবে দেখেছেন, যেখানে জন্ম, মৃত্যু, প্রেম এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের সূক্ষ্ম অনুভূতি তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমাটি সরাসরি কোনো বার্তা না দিয়ে দর্শককে নিজের মতো করে গল্প ও অনুভূতিগুলো উপলব্ধি করার সুযোগ দেয়।
এ ছাড়া সহশিল্পী ইমতিয়াজ বর্ষণের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন নওশাবা। অল্প সময়ে শুটিং হলেও দীর্ঘ প্রস্তুতি এবং পুরো দলের আন্তরিকতার কারণে কাজটি সুন্দরভাবে করা সম্ভব হয়েছে। তীব্র শীত ও ভোরের ঘন কুয়াশার মধ্যেও বাস্তব পরিবেশে সিনেমাটির বেশ কিছু দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নওশাবার বক্তব্যে সিনেমাটির মূল দর্শন দাঁড়ায়—জীবন ক্ষণস্থায়ী, তাই বেঁচে থাকতেই মানুষকে ভালোবাসা, প্রকৃতিকে মূল্য দেওয়া এবং সম্পর্কগুলোকে যত্ন করা উচিত।