কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ডিপফেক কনটেন্টের অপব্যবহারের অভিযোগে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ও আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির সহ-মালিক প্রীতি জিনতা। তাঁর অভিযোগ, অনুমতি ছাড়া তাঁর ছবি, পরিচয় ও ব্যক্তিত্ব ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও বাণিজ্যিক কনটেন্ট তৈরি ও ছড়ানো হচ্ছে।
মামলায় গুগল এলএলসি, মেটা প্ল্যাটফর্মসসহ কয়েকটি ডোমেন রেজিস্ট্রার, নির্দিষ্ট ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতপরিচয়ের (জন ডো) বিবাদীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউটিউব, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে ডিপফেক ভিডিও, বিকৃত ছবি এবং ভুয়া চ্যাটবট কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রীতি জিনতার আইনজীবীর দাবি, এ ধরনের কনটেন্ট এতটাই বাস্তবসম্মত যে সাধারণ ব্যবহারকারীদের পক্ষে আসল ও ভুয়া কনটেন্ট আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন অপব্যবহার রোধে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
শুনানিতে গুগল ও মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্দিষ্ট ইউআরএল চিহ্নিত করা হলে আপত্তিকর কনটেন্ট সরাতে তাদের কোনো আপত্তি নেই, তবে বিস্তৃত নির্দেশনা দেওয়া হলে তা প্ল্যাটফর্মের জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে এক ডোমেন রেজিস্ট্রার জানায়, তারা শুধু ডোমেন নিবন্ধনের দায়িত্বে থাকে, কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে তাদের ক্ষমতা নেই।
বিচারপতি মাধব জামদার মন্তব্য করেন, আদালতের নির্দেশ এমন হওয়া উচিত যাতে শুধু বেআইনি কনটেন্টই সরানো হয়, বৈধ কনটেন্ট যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। একই সঙ্গে সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কার্যকর অপসারণ প্রক্রিয়া তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ডিপফেক ও ডিজিটাল অপব্যবহারের অভিযোগে কার্তিক আরিয়ান, অক্ষয় কুমার, শিল্পা শেঠি, আশা ভোঁসলে, অরিজিৎ সিংসহ একাধিক তারকা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।