ধরে মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অসংখ্য বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছেন। কখনো মমতাময়ী মা, কখনো সংগ্রামী নারী, আবার কখনো মধ্যবিত্ত পরিবারের চিরচেনা ‘নিলু ভাবী’—প্রতিটি চরিত্রেই তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা। আজ এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী ৭৩ বছরে পা রাখলেন।
ডলি জহুরের অভিনয়জীবনের শুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তার অভিনয় প্রতিভার প্রকাশ ঘটে। পরে নাট্যব্যক্তিত্ব ম. হামিদের হাত ধরে তিনি ‘নাট্যচক্র’-এ যোগ দেন। এরপর ‘কথক নাট্যগোষ্ঠী’ এবং ‘আরণ্যক’-এর মতো দেশের খ্যাতিমান নাট্যদলের সঙ্গে কাজ করে নিজেকে একজন শক্তিশালী মঞ্চশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। দেশ-বিদেশের মঞ্চে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়।
মঞ্চ থেকে ছোট পর্দায় এসে ডলি জহুর নতুন এক পরিচিতি পান। ১৯৮৫ সালে হুমায়ূন আহমেদের লেখা ধারাবাহিক নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’-তে ‘নিলু ভাবী’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি রাতারাতি দর্শকদের ঘরের মানুষ হয়ে ওঠেন। এরপর অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করে ছোট পর্দার অন্যতম নির্ভরযোগ্য অভিনেত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করেন।
টেলিভিশনের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও ডলি জহুর রেখেছেন সমান সাফল্যের স্বাক্ষর। ‘অসাধারণ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেকের পর তিনি ১৬০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ‘শঙ্খনীল কারাগার’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী এবং ‘ঘানি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২১ সালে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন।
অভিনয়ের প্রতি নিষ্ঠা, চরিত্র নির্বাচনে বৈচিত্র্য এবং অসাধারণ দক্ষতার মাধ্যমে ডলি জহুর নিজেকে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সময়ের সঙ্গে বদলেছে প্রজন্ম, বদলেছে অভিনয়ের ধারা; কিন্তু ডলি জহুরের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা আজও অটুট। পাঁচ দশকের এই বর্ণাঢ্য পথচলা নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য যেমন অনুপ্রেরণা, তেমনি দেশের অভিনয়জগতের জন্যও এক গৌরবময় অধ্যায়।