বলিউডে নিজের পরিচয় গড়ার স্বপ্ন নিয়ে উত্তরাখণ্ডের দেহরাদুন থেকে মুম্বাইয়ে এসেছিলেন অভিনেত্রী মীনাক্ষী থাপা। কিন্তু অভিনয়ের সুযোগের প্রলোভনই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের জন্য ভয়ংকর ফাঁদ হয়ে দাঁড়ায়।
২০১২ সালে সহশিল্পী পরিচয়ে ঘনিষ্ঠ হওয়া দুই জুনিয়র শিল্পী অমিত জয়সওয়াল ও প্রীতি সুরিনের বিরুদ্ধে তাকে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ও হত্যার অভিযোগ ওঠে। তদন্তে জানা যায়, মীনাক্ষীর পারিবারিক আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে ভুল ধারণা থেকে তাকে টার্গেট করা হয়েছিল। অভিনয়ের নতুন কাজের কথা বলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়, এরপর পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, মুক্তিপণ না পাওয়ার পর মীনাক্ষীকে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয়। ইলেকট্রনিক তথ্য ও কল রেকর্ডের সূত্র ধরে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।
মাত্র ২৬ বছর বয়সে থেমে যায় মীনাক্ষীর জীবন। তিনি ‘৪০৪’ এবং কারিনা কাপুর অভিনীত ‘হিরোইন’সহ কয়েকটি চলচ্চিত্রে কাজ করেছিলেন। দীর্ঘ বিচার শেষে ২০১৮ সালে আদালত অমিত জয়সওয়াল ও প্রীতি সুরিনকে হত্যা ও অপহরণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
মীনাক্ষী থাপা হত্যাকাণ্ড আজও বলিউডের অন্যতম আলোচিত ও মর্মান্তিক অপরাধ হিসেবে স্মরণ করা হয়—যেখানে স্বপ্নের শহরেই একজন তরুণ অভিনেত্রীর জীবন নৃশংসতার শিকার হয়েছিল।