নগরবাউল জেমস ও ‘সারগাম’ স্টুডিওর কর্ণধার ফারুক কবির বাদলের সম্পর্ক ছিল সংগীতের গণ্ডি ছাপিয়ে গভীর বন্ধুত্ব ও আস্থার। একসঙ্গে সংগ্রামের পথ পাড়ি দেওয়া এই দুই মানুষের বন্ধন ছিল বহু দশকের। ১৯৮৯ সালে ‘অনন্যা’ এবং ১৯৯৩ সালে ‘জেল থেকে বলছি’ অ্যালবাম প্রকাশের মাধ্যমে জেমসের সংগীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পাশে ছিলেন বাদল। তবে জেমসের কাছে সেই সাফল্যের চেয়ে বেশি মূল্যবান ছিল তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আড্ডা, স্মৃতি ও একসঙ্গে পথচলার গল্প।
দীর্ঘ ২৭ বছর প্রবাসজীবন কাটিয়ে দেশে ফিরলেও অনেকটা আড়ালেই ছিলেন বাদল। ২০২৪ সালে গীতিকার বাপ্পী খানের মাধ্যমে হঠাৎ করেই তাঁর সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ হয় জেমসের। দীর্ঘদিন পর ফোনে কথা বলে পুরোনো দিনের স্মৃতিতে ফিরে গিয়েছিলেন দুজনেই। সেই কথোপকথনের স্মৃতি আজও জেমসকে আবেগাপ্লুত করে।
গত ২ মে খিলক্ষেতের বাসা থেকে বাদলের মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে স্তব্ধ হয়ে যান জেমস। তাঁর ভাষায়, বাদল শুধু সহকর্মী, ভাই বা বন্ধু ছিলেন না; ছিলেন পরিবারের একজন সদস্য। তাই তাঁর মৃত্যুতে কেবল একজন ঘনিষ্ঠ মানুষকেই হারাননি, বাংলা সংগীতাঙ্গনও হারিয়েছে একজন পথপ্রদর্শককে। জেমস মনে করেন, বাদলের হাত ধরেই বাংলা সংগীত এক নতুন যাত্রায় প্রবেশ করেছিল, আর তাঁর চলে যাওয়া সেই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটাল।