যেখান থেকে এসেছি,
সেখানেই যাব ফিরে—
বেলা শেষে পাখি যেমন
ফিরে আসে আপন নীড়ে।
মনের প্লাবনে ভেসে যাওয়া স্রোতে,
জীবনযুদ্ধে প্রতিনিয়ত ঝড় ওঠে;
কারণ আমি নারী—
নারী হয়ে জন্মেছি এই পৃথিবীতে।
নয়নের নির্ঝরিত জল ঝরে,
বিতৃষ্ণার এক মর্মর সাক্ষী হয়ে;
তবু স্বপ্ন দেখি—
হয়তো একদিন আলাদীনের চেরাগ হয়ে
স্বর্ণবৃষ্টি ঝরাব
মধুর কোনো আবেশে।
উষ্ণ হৃদয়ের উত্তপ্ত আমেজ
বুকে ধারণ করে,
অগ্নিশিখার মতো প্রজ্বলিত হয়ে
অবিশ্বাস্য দৃঢ়তায়
জীবনের সকল পিছুটান ঘুচিয়ে
দাঁড়াব আগমনী সংগীতে।
চারদিকে ঘুণে ধরা
বেষ্টনীগুলো ভেঙে যাবে
আমার বজ্রকণ্ঠের আঘাতে।
আমার পরিচয় হবে—
মেধা আর মননের জোরে;
শুধু নারী নয়,
আমি একজন খাঁটি বাঙালি—
এই পরিচয়েই গর্বিত হব।
মানি, চেষ্টা তোমার ঢের,
তবু ব্যর্থতা কেন
এই অবেলায়, এই অসময়ে?
দিন চলে যায় দিনের নিয়মে,
আর নারীর মনের ক্ষত
সমাজের নামে আরও গভীর হয়।
চক্ষুলজ্জা আর ধর্মপ্রীতির নামে
কত অদৃশ্য শিকল
নারীদের আটকে রাখে
চার দেয়ালের বেড়াজালে!
তীব্র যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গিয়ে,
অঝোর কান্না বুকের ভেতর চেপে,
কত তাজা প্রাণ
নিঃশেষ হয়ে যায় প্রতিদিন—
সমাজ নামের ক্ষতের
অদৃশ্য ঘায়ে।
তবু আমি নারী—
ভাঙব, কিন্তু হার মানব না;
কাঁদব, কিন্তু থেমে যাব না।
আমার চোখের জল একদিন
হয়ে উঠবে আগুনের ভাষা,
আমার নীরবতা ভেঙে
জন্ম নেবে নতুন ইতিহাস।
যেদিন নারী নিজের পরিচয়ে
নিজেই দাঁড়াবে মাথা উঁচু করে,
সেদিন সমাজ বুঝবে—
নারী কোনো দুর্বলতার নাম নয়;
নারী মানেই
অদম্য এক শক্তির নাম।