সবুজ গাঢ় পাতার অন্তরালে
মনের সমস্ত ভাবনার ভিড় জমে,
দু’হাতে ফুটেছিল
নিঃশেষিত লাল রঙের
প্রেম—ফাল্গুনের শিহরণে।
কাঁকনের রিনিঝিনি শব্দে,
সলাজে মুখ রাঙিয়ে,
স্বপ্ন আঁকা কাজল চোখে,
আবেগে আপ্লুত হয়ে—
প্রেমময় দীপ্তিতে
নিলাম হয়েছি আমি
স্বামী নামক কসাইয়ের হাতে।
বৃষ্টির আঁচড় লাগে হৃদয়-কোণে,
ভালোবাসা-বোনা ফসলের ক্ষেতে;
বৃন্ত থেকে ঝরে যাওয়া ফুলের মতো
‘স্ত্রী’ নামক পাপড়ি থেকে
তার পিপাসা নিবারণ করে,
কল্পিত স্বপ্নলোকের বাইরে
নিলাম চলছে ঘোরের তালে।
বিবেক বেহুঁশ সকলে,
উকিলতির মারপ্যাঁচে ঘুচে যায় সত্য,
পুরুষত্বের সৌন্দর্য বিকোচ্ছে
যত্রতত্র, ভিন্ন বেশে—
আর মরেছি কেবলই
নারী হয়ে।
আত্মমর্যাদা শিকেয় তুলে,
স্বামীদের শাসনের বেড়াজালে
কালের পরিক্রমায়—
সেকাল থেকে একালে,
বিষক্রিয়ায় জর্জরিত নারী
ক্লান্ত, ক্ষতবিক্ষত আপাদমস্তক।
চারদিকে সবাই ঝড় তোলে—
শিক্ষিত হোক কিংবা মূর্খ,
অধিকার পাবে সবাই
সমানভাবে, সমান চালচলনে।
তবু সত্যি মানুষ
আর মুক্ত মন—
কোথায় মিলবে?
নারীরা তো আজও
নিলাম হচ্ছে—
বিবেকহীন সমাজের
অদৃশ্য বাঁধনে।