তুমি কি কখনও গল্প লেখার চেষ্টা করেছ? স্কুলের খাতায় ক্লাসের ফাঁকে বসে গল্প? একজন গল্পকথকের গল্প শোনাবো তোমাদেরকে। যাকে বলা যায় বাংলা সাহিত্যের জাদুকর। যিনি তার কাজের মাধ্যমে আমাদের হাসিয়েছেন, কাঁদিয়েছেন, ভাবনায় ফেলেছেন। তিনি হুমায়ুন আহমেদ।
ছোটবেলা থেকেই হুমায়ূন আহমেদের কৌতুহল ছিল জগৎকে জানার, মানুষের মনকে বোঝার, আর নিজের কল্পনাকে কাগজে কালো অক্ষরে ফুটিয়ে তোলার। ঘুমানোর বেলা মা তার ভাই-বোনদের সাথে গল্প বলতেন; ছড়া শুনাতেন। মায়ের কাছে গল্প শুনতে শুনতে হুমায়ুন আহমেদের মনেও গল্পের বীজ ডালপালা বিস্তার করতে থাকে। স্কুলে তিনি ছিলেন বেশ মেধাবী। গণিত আর বিজ্ঞানে ভীষণ ভালো। লেখালেখির ভূতও তখনই মাথায় চেপে বসে। স্কুল ম্যাগাজিনে তার জীবনের প্রথম একটি লেখা ছাপা হয়েছিল।
স্কুলে পড়ার সময়ই একবার বৃত্তি পেয়ে বৃত্তির সমস্ত টাকায় তিনি মায়ের জন্য একটি শাড়ি কিনেছিলেন। তোমরা যদি এমন বৃত্তি বা পুরস্কার পাও, কী করবে? শুধু কি নিজের কাজে খরচ করবে?
নাকি পরিবার, সমাজ ও দেশের কথাও ভাববে?
বড় হয়ে হুমায়ুন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন রসায়ন বিভাগে। এসময়ই তিনি লিখলেন জীবনের প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে। তার প্রথম উপন্যাস পড়েই সাহিত্যবোদ্ধারা বুঝে গেল বাংলা সাহিত্যে নতুন এক দিকপালের জন্ম হতে যাচ্ছে। তারপর একে একে লিখেছেন শঙ্খনীল কারাগার, কৃষ্ণপক্ষ, বহুব্রীহি, এইসব দিনরাত্রি, দেবী, অচিনপুর – কতো কতো উপন্যাস, নাটক, সিনেমা। তৈরি করেছেন হিমু, মিসির আলী, শুভ্রের মতো কালজয়ী কাল্পনিক চরিত্র।
হুমায়ুন আহমেদ শুধু লেখকই ছিলেন না, ছিলেন একজন নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, এমনকি গীতিকারও। সৃজনশীলতায় তিনি ছিলেন সবার থেকে আলাদা। তুমি যদি বুঝতে পারো, তোমার মাঝে অন্য সবার থেকে আলাদা কোনো প্রতিভা আছে, তবে সেটাকে গুরুত্ব দাও।
খুঁজে বের করো বিধাতা তোমাকে আলাদা কী বিশেষত্ব দিয়েছেন, যা অন্য কাউকে দেননি।