কনটেন্টের ভিউ বাড়ে, কিন্তু রয়্যালটি কোথায়

Share

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের সঙ্গে বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে রয়্যালটি ও কপিরাইটের ন্যায্য হিস্যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একটি গান, নাটক বা সিনেমা একবার তৈরি হওয়ার পর ইউটিউব, ফেসবুক, ওটিটি ও বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে বারবার ব্যবহার করে আয় করা সম্ভব হলেও সেই আয়ের কতটা স্রষ্টার কাছে পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়ে রয়েছে অস্পষ্টতা।

বিশেষ করে সংগীতশিল্পীরা বলছেন, গীতিকার, সুরকার, শিল্পী ও রেকর্ডিংয়ের মালিক—সবার আলাদা স্বত্ব থাকলেও ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যবহারের প্রতিটি ক্ষেত্রে কে কত রয়্যালটি পাবেন, সেই কাঠামো এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। একজন স্রষ্টার পক্ষে নিজের কাজ কোথায় কতবার ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সেখান থেকে কত টাকা পাওনা হচ্ছে, সেটিও একা হিসাব রাখা কঠিন।

ওটিটির ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। চুক্তিতে স্বত্ব হস্তান্তর করা হলে পরবর্তী আয় থেকে শিল্পী বা নির্মাতারা অংশ পাবেন কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করে চুক্তির শর্তের ওপর। তাই কাজের স্বত্ব কতদিনের জন্য, কোন প্ল্যাটফর্মে এবং পুনঃপ্রচার বা বিদেশে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী হবে—এসব বিষয় চুক্তিতে স্পষ্ট করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

আরেকটি বড় সমস্যা ভিউ ও আয়ের হিসাবের স্বচ্ছতা। কোনো ভিডিও লাখ লাখবার দেখা হলেও সেই ভিউ থেকে কত আয় হচ্ছে, তা নির্ভর করে বিজ্ঞাপন, দর্শকের অঞ্চল, প্ল্যাটফর্মের নীতি ও মালিকানাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। ফলে জনপ্রিয়তা থাকলেও তার আর্থিক সুফল সবসময় স্রষ্টার হাতে পৌঁছায় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার সমাধানে শিল্পীদের কপিরাইট সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, স্বচ্ছ চুক্তি করা, কার্যকর রয়্যালটি-ট্র্যাকিং ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী কালেকটিভ ম্যানেজমেন্ট সংগঠন গড়ে তোলা জরুরি। ডিজিটাল যুগে তাই শুধু ‘কত ভিউ’ নয়, সেই ভিউ থেকে স্রষ্টার ন্যায্য পাওনা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে—সেটিই বড় প্রশ্ন।